এতে লিটারপ্রতি দাম বাড়ল ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, নতুন দর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে গত ৮ মার্চ ও ২৪ মার্চ দুই দফায় পণ্যটির দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি। এ হিসাবে দেশের বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল লিটারে ১৩১ টাকা ৯৬ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক সংকটের জেরে দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম দফায় জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় সরকার। সে সময় অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়। লিটারপ্রতি ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে পণ্যটির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। একই দিন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম শুল্ক ও মূসক ছাড়া ৬৩ থেকে বাড়িয়ে ৭৪ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়।
দুই সপ্তাহ পর গত ২৪ মার্চ দেশে পণ্যটির দাম আবার বাড়ানো হয়। ওইদিন অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বিইআরসি। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সায় উন্নীত হয়। একই দিন আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম দশমিক ৭৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জেট ফুয়েলের সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। সংকটের কারণে বাংলাদেশের মতো বিশ্বের আরো অনেক দেশ পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লাইট ও রুট কমানোর পাশাপাশি টিকিটের মূল্য সমন্বয় করছে দেশটির এয়ারলাইনসগুলো। জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে টিকিটপ্রতি ভাড়া ১২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গতকালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরো একবার ভাড়া সমন্বয় করার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো।
দেশের এয়ারলাইনসগুলো বলছে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের এয়ারলাইনসগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে। একই সঙ্গে জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরো বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করার আহ্বানও জানিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
এদিকে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় জেট ফুয়েল আমদানির ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক ও মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান। এর মধ্যে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ২ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।